রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

দণ্ডনীতি

‘গুরু’ সংখ্যায় লঘু, অথচ গুরু(ত্ব)বহ!
লঘুত্বের অপমান দেখে গুরু নির্ব্বিকার কেন?...
...
গুরুবাদী সংখ্যারা
ভয়ানক
কি জলে কি স্থলে!
চলছে চৌদিকে, লঘু-পাপে গুরুদণ্ড!...
অথচ ঈশ্বর, কী দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী সংখ্যালঘু!...



একটুখানি পরিচয়


বাপু,
এত সাদাকথা কও ক্যানে? একটু শ্যামলকথা কও,
অব্যক্ত বর্ষায় জুড়াক পরান!...
লোকমুখে শোনো নাই— এইখানে রমণীরা নয়ন পিঞ্জরে পোষে শ্যামসুখপাখি?
মওলার ইশকুলে পড়ো নাই— আমরা যে শ্যামলবরন জাতি?

সাদা না,
শ্যামল মনের মানস আমি;
দেখি, সময়ে সময়ে রং বদলায় প্রকৃতি ও প্রেম
এবং জীবন!
আরও দেখি, বিমুখ প্রান্তরে
আমারই মাঝে কারা যেন বলে ওঠে,
কালো হাত ভেঙে দাও!
যদিচ
নীরব কুটিরে
ঝুপ্... ঝুপ্... ঝুপ্...
নেমেছে উপনিবেশ, সাদা!
জানালায়
তাকিয়ে আছেন, আপনি, কোন মনের মানস?
মানসনন্দনে কেবল রঙের ছড়াছড়ি

দেখা হয় নাই নয়ন মেলিয়া, আড়ালে আড়ালে কে কাকে মাখায় রং!...

দাঁড়াও হে লাল

দাঁড়াও হে লাল/ এখানে দাঁড়াতে হয়/ এখানে হয়ত কিছু রয়ে গেছে/
নিবিড় বন্ধনে/
হৃদয়পুর থেকে মেহেরপুর/ যেতে যেতে দেখা/
সবুজের মাঝে/ লালের মাধুরী/ ধীরে ধীরে উঠে আসে/
সূর্য্যের স্বাক্ষরে/
সবুজের মাঝে মিশে মিশে/ লাল/ কতটুকু লাল থাকে/ জানে চিত্রলেখা/
দাঁড়াও হে লাল/
এখানে দাঁড়াতে হয়/ নিবিড় বন্ধনে/ দাঁড়াও চে/ একটু দাঁড়াও/ দাঁড়াও না ভাই/...

ভাড়া-টিয়া


পৃথিবী আমার মাটি, বাড়ি, শূন্যতা ছাউনি তার!

বাড়িটি তোমার নয়, তুমি ভাড়া-টিয়া, বাড়িহারা!
এমত কথার জীবনযাপনে,
আমার কোনও মাটি নেই! হাস্নাহেনার ঘ্রাণ ডাকেনি আমাকে
রাতের নির্জনে, ব্যালকনির হৃদয়ে।…
এই
নগরবিতানে,
শহরের কোলে, আমি মাটিহারা!
অথচ, সজল-বর্ষা-নামা মনের মাটিতে শিকড় গজায় কদমের চারা;
আমার কোনও শিকড়ের গান নেই!
ভূমির দস্যুতা শিখি নাই,
ভাবছি, বর্ষায় শিখে নেবো, শিকড়ের গান, সুষম বন্ধনে...
আজ
কাঁদায় আমাকে ঘাসফুলটির মাটি আছে,
আছে ফুটে থাকা সহজতা, আমার কোনও সহজতা নেই, প্রেম নেই!...



সান্ধ্যখবর / পত্রিকার হেডলাইন


সান্ধ্যখবর পত্রিকার হেডলাইন


সবুজ পাতার মিছিলের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে জীবন চৌধুরী।…
নজরদারিতে সবুজ সদন।… চোখবন্দি শ্রীমতি সবুজ পাতা।…
কারফিউ।… বন্দুকের ঘেউ ঘেউ।…
ঘুরছে কেউকাটা, টিকটিকি, ফেউ।… থেমে থেমে গেয়ে ওঠে গান, রাইফেল, স্টেনগান।…
পথে পথে ছড়িয়ে পড়ছে জরুরি সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা, রক্তজবার আহাজারি।…
হলুদসংঘ সদর ভবনের সামনে একঝাঁক তরুণের লিঙ্গ প্রদর্শন, লাঠিচার্জ।…
নিষেধ, বাহিরে আসা, কবরের ভিতরে থাকুন, পরবর্ত্তী ঘোষণা অবধি… বন্ধ পাখিদের পাঠশালা,
সবুজ পাতার পাঠশালা।…
নিষিদ্ধ ফুলের ঘ্রাণ, হাসি।… ‘মাত্রা’ দেখায়, দেখামাত্র হিম উদ্গীরণ, নো ম্যানস্, নো কমেন্টস্।…

নক্‌শিকথায় বোনা সুতোর কাহন, ফুলতোলা গাথা, প্রতি আজাজিল


প্রতিবীর,
আপনার লাগি মনে জাগে সহজ নামাজ! জীবনের উদ্ভাসে জাগা ভোরের ট্র্যাজেডি,
নয়নের জল
অনুবাদে, ঘাসের ডগায় জমে ফোঁটা ফোঁটা শিশিরের কান্না 
শোকরানা!
পাপের বিকাশে লুকায়িত ছিল, প্রবর্ত্তনা> মানবজীবন!
জ্ঞানবৃক্ষে
নিষিদ্ধ গন্দম না দেখালে মেলত না পাপড়ি> আদম ও হাওয়ার উপাখ্যান,
ছেলেটিকে দেখে মেয়েটির মনে ফুটত না কভু অনুরাগের বকুল,
সোনাঝরা ভোরে
নিশীথিনী আঁধারের সমাপনে মাওলানা বুলবুল গেয়ে উঠত না ভোরের আজান> সঙ্গীত>
প্রভুর প্রার্থনা... 
আপনা বিকাশে লুকায়িত ছিল পাথরের বুক চিরে নামা ঝর্ণা> নদী> সাগরের জল!
কালার বাঁশির সুরে
জীবনচরিত নদীটির বাঁকে বাঁকে বেজে ওঠা রাধিকার মন...
যত মত তত পথবাদে
মানবের
মন ও মননে খেলা করে ড. জেকিল, মি. হাইড কিংবা হাবিল কাবিল
ধন্য,
মানবজীবন বয়ে চলো, সাধের ত্বরণি পাবে না রে আরবাউলিয়ানায় গেয়ে ওঠে
পথের চৈতন্য, সাঁইজি লালন
পাখি সব করে রব আপনা কীর্ত্তনে!...
আপনাকে নমি, সহজ নামাজে… সৃজনব্যথায় জাগে ঝিনুকের কাতরতামুক্তার সুখজ সম্ভাবনা!
.................................
এইসব, 
কথার ফাল্গুন, সুরে সুরে বেজে ওঠে ভোরের বাঁশিতে, গাছের শাখায়, ফুলফোটা ভারে!


ফুলেরা পোশাক পরে না


হ্যাঁ!
খুলে ফেলুন স-ব-কি-ছু
ফুলেরা পোশাক পরে না! খুলুন, এ-ক-টু এ-ক-টু করে
..............   .....................   ............................................................
দেখুন আয়না,
কী চমৎকার, যেন ভোরের শিউলি, সদ্য ফোটা,
শিশিরভেজানো ঘাসপথে পায়ে পায়ে হেঁটে এসেছেন শিল্প!
বলছেন, শেষ কবে খালি পায়ে শিশির ছুঁয়েছেন?
ভাবুন বাজারমহলে আপনিই আয়না! 
ঘুরে দাঁড়ান,
একটু... হ্যাঁ… আ-রে-ক-টু...
আহ্, কেমন সুডৌলইদানীং আপেলের দাম ভালো!
মাথা নত করবেন না এদিকে তাকান, হ্যাঁ, চোখ রাখুন, চোখে...
এক চুমুক হাসুন, যেভাবে
খুকিরা ললিপপ চোষে… আর হাসে… এমনইইই…
..................
ঠিক আছে, চলবে এটুকু
এবার হাঁটুন, যেভাবে নদীরা বয়ে যায়, এঁ-কে-বেঁ-কে…
এ-ক-টু দোলান!বাহ, বেশ খাসা, দোলছে বাজার নাচের মুদ্রায়!
কমলায় নৃত্য করে, দোদুল দোদুল দোলে...
বাজার নৃত্য করে, বাজার বিত্ত করে, বাজার বৃত্ত করে!...
সভ্যতা!
আপনাকে চায় ভ্রমণ করুন, মুক্ত হাওয়ায়,
ভুলে যান পিছুলোক, পিছুকথা জানুক তাহারা, নতুন কথন
ফুলেরা
পোশাক পরে না!

ব্যপারীর হাটে… 
বি(শেষ)জ্ঞাপনে বাজে ঘ্যানর ঘ্যানর…
এইসব
কথার পাঁচালি…