শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আমি ও ফড়িং


চোখলাল বসবাস থেকে দূরে
  সবুজশাসিত বনে
    আমি ও ফড়িং থাকি একসাথে
      করি খুনসুটি
       করি ভালোবাসাবাসি
        মন    
         যখন যেখানে চায়
          যাই
           করি না পরোয়া কারো
           বলি
           চোখলাল বসবাস ছাড়ো
            সবুজ শাসন ভালোবেসে
            মনের পবনে পাখা মেলে
            আমি ও ফড়িং
           ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ি— যেনবা রঙিন ঘুড়ি


চোখলাল
  বসবাস থেকে দূরে
   সবুজশাসিত বনে
    আমি ও ফড়িং
    মনলাটাইয়ের প্রণয়সুতোয় বাঁধা…

কবিরাজ শ্যামল বৈদ্যের শিকড়ভাবনা


শিকড়ে হোঁচট খেলে শিকড়ের মর্ম্ম বোঝা যায়,
জানা যায়
গভীরে লুকানো আছে কতটুকু,
বৃক্ষের ইতিহাস, ইতিহাসচেতনা—
আলো ও বাতাসমুখী মাটি ও জলের যাতনা রঙিন সময়, জীবন— বৃক্ষ।
শত শতাব্দীর জনপদে
কর্ত্তিত বৃক্ষের গোড়া ফুঁড়ে 
গজায় নতুন চারা, কিশলয়, ডালপালা— নতুন সময়!

       হোঁচটের মর্ম্মে বোঝা যায়, শিকড়ের সাথে মাটির বন্ধুতা...

মায়াবাড়ি পাঠশালা

মায়াবাড়ি পাঠশালে/ রুপালি সকালে/
সূর্য্যঘড়ি ফেলে ছায়া/ দশটার/
পাঠশালা হতে/
একশত হাত দূরে/…
কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো/ উড়ুউড়ুমনা ছেলেটির/
ক্রিংক্রিং/
বাইসাইকেলফোনে/
প্রতিদিন/
মেয়েটির মনে ফুল ফোটে/ দশটার/…
আর/ দুরুদুরু কাঁপে বুক/
জানে যদি মিসেস মালতি মালা/ ফুটবে অশ্রুত/ বারোটার ফুল/...

রিমঝিম রায় ও জলের চাতক পঙ্‌ক্তি


মাঠগবেষণাদিনে
সবুজ বাসনা জাগা গণবধূয়ার জনপদে
টাপুরটুপুর জলের নূপুর সকাল দুপুর ঝরে
প্রাণের পূর্ণ সঞ্চারে হা-মুখী কলস
চাতকবচনে রচে জলজ গীতিকা
     নামরে শ্রাবণ ঝেঁপে ধান নেবো মেপে
     হাঁড়ির খবর রটাল বাতাস জনে জনে         
ঘুরিয়া ঘুরিয়া নৃত্যপর
আমজামপাতাভরা নক্‌শিকুলায়
মাটির দীপালি জ্বলা ভীষণ পিরিতে নিও
হিজলবাদন
এমন মধুর আবাহনে
জমাটি প্রেমের হিমাগার ভেঙে
আকাশ ঝাঁপিয়ে নামে রিমঝিম রায়
জলের সেতারে বাজে গীতিপঞ্চরাগ
   প্রাণজ সবুজ সকালের মাটি কেলাহলে
     আষাঢ় শ্রাবণে বর্ষে দেয় নবধরাজলে
রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম
মুখরিত
গণবধূয়ার জনপদে
বছরকাবারি খোরাকির সমারোহে
লাঙ্গলের মুন্সিয়ানা দেখে ঠোঁট টিপে হাসে
মাটি ও মানুষ
তোলে ধ্বনি: জয়তু শ্রাবণ
রিমঝিম রায়   জয়তু শ্রাবণ রিমঝিম রায়

নটরাজ

....................
নাচে নটরাজ, নাচে নাচে...
ত-র-ঙ্গা-য়ি-ত
কণায় কণায় বাঁকে বাঁকে
নাচে ইলেকট্রনে...
নাচে পসিট্রনে
নাচে ফোটনে...
নাচে সৃজনে... নাচে বিনাশে...
নাচায় ত্রিশূল, নাচায় নাচায়!...
বয়ে চলার
শব্দসুন্দরমে (বাজায় ডুগডুগি, বাজায়!...)
নৃত্যপরায়ণ
এ নিখিল বিশ্বে
গতিময়
সাপের আলেখ্যে
(গ্রীবায় দোলছে রূপের বিভঙ্গ)
এই
জীবনপুরাণ!...
নাচে নটরাজ, নাচে নাচে...
ত-র-ঙ্গা-য়ি-ত
কণায় কণায় বাঁকে বাঁকে,
জাগিছে নৃত্যজ পদে অর্থের বাগান...
নাচে সত্যম্
শিবম্
সুন্দরমে...
জটায়ু চূড়ায় হাসে
পার্বতীর
চিকন ঠোটের হাসিময় একফালি বাঁকা চাঁদ!

নাচে নটরাজ, নাচে নাচে...

সবুজ পাতার সাথে পেতেছি বন্ধুতা


আমি/
বখে যাওয়া সময়/
সবুজ পাতার সাথে/ পেতেছি বন্ধুতা/
ঘাসের সবুজ ওড়নায় বসে/
করি আলাপন/
ঘাসফুলটির সাথে/
প্রজাপতির ডানায় চড়ে/ উড়ছি তথ্যের ফুলে ফুলে/
ফুলের নৈকট্যে/
ফুটছি ফুলের মনে/
পলাশের লালে ফুটে থাকা পথ ছেড়ে/
অন্যপথে হেঁটে/
পাব কি পথের লাবণ্য/ লাবণ্যের পথ/
আমি পথ/
লাবণ্যের/ সবুজ পাতার/
যত সবুজের/...............................

আধার ও আধেয়


.......
কাবায় শরিয়ত,
হেরাগুহায় মারেফত— (কাবায় ফিজিক্স,
হেরাগুহায় মেটাফিজিক্স!)
মাঝে
কেবলা ও নূরে
মুখরিত রোশন-এ-আরা...
খোঁজে
শরীরে শরিয়ত, মনেতে মারেফত—
(লালা+লালা= লীলা... ঘটনাপুঞ্জের কেন্দ্র...) ব্রহ্মাণ্ডে ফোটছে মন
রজনী পোহায়,
গর্ভের আঁধার কেটে নূর-এ উদ্ভাস...
ফুলেল লাবণ্যে
(কাবার বিহনে জাগে হেরা...
হেরার বিহনে কাবা...) জশনে জৌলুশে
(পদ+অর্থে) ধরে
ভাবের মুরতি... মোরাকাবা... এ কী অপরূপ আধেয়শিখায়
জ্বলে
আধারপ্রদীপ!…