রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অপরাধ বিষয়ক


(.......................)
আমাদের
অপরাধটুকুর বর্ণনা…
মাত্রা…
লিখে রাখা যায় বিজ্ঞানপাতায়!...

সুন্দর মুহূর্তটুকু ফুটিয়ে তোলার জন্য
অপরাধটুকুর প্রয়োজন ছিল!...
বর্ষার কাজলপরা চোখে, বৃষ্টির মুগ্ধতা ঝরা
কিছু অপরাধ জমা থাক, কদমফুলের কাছে!...
এটুকু জানুক, ভোরের মানসি!
আরও জানুক,
অপরাধ
বিপ্লবের ধাত্রী, ফুল ফোটার ব্যাকরণ!
যারই মর্ম্মে কানাকানি, জানাজানি,
ভাবার্ত জীবন!...

আহা!...
সৌন্দর্য্যপিপাসা মনে খেলা করে  
অপরূপ অপরাধ
প্র-ব-ণ-তা!...

মনিহার


কে জানি প্রথম লিখল, বেদনার রং নীল!...
  অথচ
    সুন্দর একটি সকাল আছে
      নীল সমুদ্দুর চোখে!...
        ফেনিল লাবণ্য ছুঁয়ে দেখা মনে,
          নীলাপাথরের গায়ে/গাঁয়ে
            চিত্রল হরফে লিখলাম, প্রিয় মনিহার!...

দ্বন্দ্ব/ বন্ধ করো না জানালা


Dear,
I have an anti-creation for you,
Because,
You’re a creative river
Go ahead murmuring beside my window!
I have an anti-creation for you on the faculty of arts,
Before the rain comes!…

দ্বন্দ্ব/
বন্ধ করো না জানালা/
খোলা জানালায় ভাষা পায়/ বকুলের ঘ্রাণ/
জেগে ওঠে আদিগন্ত/ স্বপ্নভঙ্গ নির্ঝরের মন/.........

দ্বন্দ্ব/
বন্ধ করো না জানালা/
খোলা জানালার অভিবাদনায়/
বসে আছি/
নগরশোভিত/ ঘাসের সবুজ মনে/ একটি ললিত উত্তরণ/...............

দ্বন্দ্ব/
বন্ধ করো না জানালা/ 
বলো না কখনো/ প্রান্তে কিছু নাই/
খোলা জানালায় ভাষা পায়/
দূরের গাঁয়ের মেঠোমনে ফোটা/ বুনোফুলটির ঘ্রাণ/
বিশ্বলোক/..................

কেবল সংশয়ে বেঁচে থাকা যায় না


কোথাও না কোথাও
ছোট ছোট বিশ্বাসের ছায়া সুশীতল নীড় থাকা চাই,
কেবল
সংশয়ে বেঁচে থাকা যায় না!
এতো ভাবিস না রে পাগল, হদিশ পাবি না—
কূল নাই… কিনার নাই… এ ভবপারাপার…
তারচে
নির্জন নদীর কূলে যে বাঁশি বাজছে…
তুই
তার টানে মজে থাক্—
মুরালীর সুরের সুতায়
ইচ্ছের আকাশে (রাধিকা’র শাড়ির আঁচলে) ওড়ে বেনীআসহকলা ঘুড়ি।
দেখতে পারিস,
মাকড়সাজালে জমে থাকা
টলোমলো ফোটায় শিশিরের লাবণ্য, কুয়াশার সংসার, বিশ্বরূপ!…
এতো ভাবিস না রে পাগল,
হদিশ পাবি না…
কূল নাই… কিনার নাই… এ ভবপারাপার…
তারচে
একছিলিম সবজীর দম লাগা জীবনের টানে বেজে উঠ্— সা-ধু!
অভাবের সংসার হয়েছে তো কী— ঋণের টাকায় ঘি খা, ভাবে থাক্!…
কেবল
সংশয়ে বেঁচে থাকা যায় না!...

বাদ্যবাধকতা

বাদ্য!
বাধ্য করে না আমাকে, আপনায় বেজে উঠি একতারায়!...
বাদ্য!
বাঁধে না আমাকে বাধ্যবাধকতায়…
নূপুরের কলতানে বেজে ওঠা উদাস দুপুর, দেখে চুপিসারে,
কোথায় উঠেছে বেজে মনের মন্দিরা,
ভেঙে শাসনের বেড়া!
বাঁশিটি বাজিছে কোন্ সে নদীর কূলে, বুঝতে পারে না, কি শাসন কি রাষ্ট্র...
বাদ্য! বাধ্য করে না আমাকে,
আপনায় বেজে ওঠে বাদ্যবাধকতা!
দেখি, ধুলোওড়া পথে ভোরের মেজাজ,
মিছিলে মিছিলে বেজে উঠছে
কিংবা
গোধূলির রঙলাগা আকাশের কোল ঘেঁষে দৃশ্যকল্পে ওড়া বলাকার ঝাঁক,
নীড়মুখী, কী এমন দলগত বাদ্যে!...

নদীটির নীড়ে,
বাকবাকুম বাকবাকুম অভিসারে মাতে
কৈতরাকৈতরী, জগতের এ আনন্দযজ্ঞ, বাদ্যবাধকতা,
                            বুঝতে পারে না, কি শাসন কি রাষ্ট্র...

ঝরাপাতার কবিতা


ঝরাপাতা,
উস্কে দেবো আগুন?...
দাহকালে
পোড়ে দেহ, পোড়ে কাঠ,
জ্বলে মহাকালচুলা।…
প্রার্থিত সবুজহারা নীড়মুখী,
বাতাস উড়িয়ে নেয় একটুকরা আগুন…
ঝরাপাতা,
উস্কে দেবো ফাগুন?!...


যুক্তবর্ণা


আপনি
যুক্তবর্ণ পছন্দ করেন না!
‘বন্ধন’
শব্দটিকে লেখেন
এইভাবে : ব ন্ ধ ন্!…
মুক্তবর্ণের শব্দমালায় নতুন বিন্যাসে রচনা করেন
বাকের বিভূতি, প্রেম!...
আর
আমার সহজাত টান, যুক্তবর্ণে...
বন্ধনে...
যেমন, ন্ধ!…
এইখানে… বর্ণে বর্ণে মাখামাখি, একে অপরের উপর
চেপে থাকা… 
বলছে, পড়ো, মিথুনের ভাষা! (...)
চোখ
চলে যায়
খাজুরাহো, টেরাকোটা, কোণার্কে…
দৃশ্যের হৃদয়ে শৈলী, কলা
পাঠের আনন্দে নেচে ওঠা মন, রিনিঝিনি শিহরণে
টের পায়
সৃজনের শরীরচেতনা!...
এখানেই আমি চির সনাতন!
যুক্তবর্ণা
আমাকে তাগাদা দেয় যূথচারিতার দিকে!...
যুক্তবর্ণার শরীরচেতনায়
তাহাকেই পেতে স্বাদ জাগে(!)...